থাইরয়েডের সমস্যা ও ঘরোয়া সমাধান | থাইরয়েড থেকে মাত্র ১৫ দিনে মুক্তির উপায়ে |

আজ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এজন্য লেখাটা সম্পূর্ন না পড়লে আপনি বুঝতেই পারবেন না বিষয়টি আপনার জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজ জানাবো থাইরয়েড সম্পর্কে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা বুঝতেই পারেন না তাদের থাইরয়েড আছে কি না।

কারন থাইরয়েড ভেতরে ভেতরে আপনার সমস্ত অরগ্যান কে ধ্বংস করে ফেলে। এই জন্যই থাইরয়েডকে বলা হয় নীরব ঘাতক। যতদিনে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার থাইরয়েড হয়েছে ততদিনে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই বলছি আজকের এই লেখাটি অবশ্যই সম্পূর্ণ পড়লে তাহলেই বুঝতে পারবেন এই Article-টি আপনার জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ। এই Article-টি পড়লে জানতে পারবেন থাইরয়েড থেকে মাত্র ১৫ দিনে মুক্তি পাওয়ার উপায়। আজ যে রেমিডি দুটি  বানানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো তা নিয়মিত সেবন করলে আপনার থাইরয়েডের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আর সেইসাথে আরো জেনে নিন -

থাইরয়েড কি?
আপনি বুঝবেন কিভাবে আপনার থাইরয়েড হয়েছে? 
থাইরয়েড কাদের বেশি হয় পুরুষ না মহিলা? 
কোন বয়সে থাইরয়েড হয়? এবং 
থাইরয়েড কেন হয়? 

স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে অবশ্যই Solution Mind Website-টি Visit করে আমাদের পাশে থাকুন।

তো চলুন থাইরয়েড সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই.......


থাইরয়েডের সমস্যা ও ঘরোয়া সমাধান | থাইরয়েড থেকে মাত্র ১৫ দিনে মুক্তির উপায়ে |


থাইরয়েড কি? 

আমাদের শরীরের শ্বাসনালীর সামনের দিকে অবস্থান করা ছোট একটি গ্রন্থি হল থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের নানা কাজে লেগে থাকে। যেমন বিপাকক্রিয়া, বাচ্চাদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা, বয়সন্ধি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রিত হয় থাইরয়েড নিসৃত হরমোন এর প্রভাবে। থাইরয়েড মূলত দুই প্রকার হয়ে থাকে প্রয়োজনে Triiodothyronine T3 এবং Thyroxine T4 এই দুই হরমোনের প্রভাবে শরীরের মেটাবলিজম রেগুলেট হয়ে থাকে। এই হরমোন দুটি শরীরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে দরকার পড়ে। এর থেকে পরিমাণ বেড়ে গেলে বা কমে গেলে সৃষ্টি হয় সমস্যার।

থাইরয়েড বেড়ে গেলে বা কমে গেলে যে দুটি রোগ হয় তাদেরকে বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েডিজম। থাইরয়েড থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেশি হরমোন নিঃসৃত হলে যে কন্ডিশন হয় তাকে বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম এবং প্রয়োজনের তুলনায় যদি কোন হরমোন নিঃসৃত হয় তবে সেই কন্ডিশন কে বলা হয় হাইপোথাইরোডিজম দুই ক্ষেত্রেই শরীরে তৈরি হয় নানান সমস্যা। 

আপনি বুঝবেন কি করে আপনার থাইরয়েড হয়েছে? 

হাইপোথাইরিজম এর ক্ষেত্রে অর্থাৎ হরমোন নিঃসরণ কমে গেলে দুর্বলতা বেড়ে যায়, ওজন বেড়ে যায়, ঠান্ডা বেশি লাগে, হাত-পায়ে বিশেষ করে জয়েন্ট গুলোতে অত্যধিক ব্যথা অনুভূত হয়, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ইত্যাদি সমস্যাগুলো দেখা দেয়। 

অন্যদিকে আপনার যদি হাইপারথাইরয়ডিজম অর্থাৎ হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায় তাহলে ক্লান্তি হয়, চুল পড়ে যায়, আপনার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বরের পরিবর্তন হয় এবং আপনার শরীরের ওজন ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। 

থাইরয়েড কাদের বেশি হয় পুরুষ নাকি মহিলা?

একথা সত্যি যে মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বেশি হয়। বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে মেয়েদের শারীরিক গঠন, হরমোনের প্রভাব, অর্গানিক মেটাবলিজম প্রভৃতি। এই সমস্যার কারণে মেয়েদের ওজন বেড়ে যেতে থাকে, অসহ্য শীত লাগে আবার কখনও কখনও অসহ্য গরম অনুভূত হয়, শরীরে ব্যথা হতে পারে, চুল পড়ে যেতে পারে, প্রচন্ড দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে, মাসিক অনিয়মিত হবে, গলা খুলে যাবে, এবং পরবর্তী সময়ে বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে। 

বারবার গর্ভপাতের মতো বিষয়ও ঘটতে পারে। মেয়েদের মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্যহীনতার ঘটতে পারে যদি থাইরয়েড হয়ে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো মেয়েদের গর্ভকালীন সময়ে থাইরয়েডের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই আপনি গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথেই অবশ্যই আপনার থাইরয়েড টেস্ট করিয়ে নিন। 

কোন বয়সে থাইরয়েড বেশি হয়ে থাকে?

একটি জরিপে দেখা গিয়েছে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ লোক থাইরয়েড রোগে ভুগছেন, যার মধ্যে আমাদের দেশের শতকরা ৬.২ ভাগ শিশু এবং ১১.৭ ভাগ মহিলা। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন শিশুকাল থেকেই এই রোগের সূচনা হয়। শুধুমাত্র বয়স্কদেরই নয় শিশুদের জন্যেও হুমকি থাইরয়েড। কেননা থাইরয়েড হলেই তার বুদ্ধি হ্রাস পেতে থাকে এবং তার শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই আপনার থাইরয়েড হয়েছে কিনা এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া খুব জরুরি। 

থাইরয়েড কেন হয়? 

থাইরয়েড কেন হয় এর কারণ হিসেবে প্রাথমিক ভাবে বলা যায় শরীরে আয়োডিনের অভাব, শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন না খাওয়ায় থাইরয়েড হওয়ার প্রাথমিক কারণ। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই বংশগত হতে পারে। তবে থাইরয়েড হলে ভয় পাবেন না। আজ আপনাদের যে দুটি রেমিডি প্রস্তুত করা শেখাবো, যদি সঠিক নিয়মে সেবন করতে পারেন তাহলে আপনার থাইরয়েডের সমস্যা একদম নির্মূল হয়ে যাবে। 

চলুন জেনে নেই কি সেই রেমিডি। রেমিডি দুটি আমি দুটি ধাপে বানানো প্রকৃয়া বলবো। প্রথম রেমিডি বানাতে লাগবে তিশি। তিশি কে নিশ্চয়ই অনেকেই চেনেন। ইংরেজিতে তিশিকে বলা হয় ফ্লেক্স। তিশি হচ্ছে আঁশসমৃদ্ধ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি আসিড এবং মিনারেলসের এক অসাধারণ সমন্বয়। 

তিশির ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড আপনার হরমোনের গ্রোথকে অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ কে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। তিশি আমাদের শরীরে এন্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ করে এবং তিনি শুধুমাত্র আপনার দেহে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ ঠিক রাখে তাই নয়, তিশি আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। তিশি ব্লাড ক্যান্সার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। 

গ্যাস্ট্রিক.আলসাে এবং অ্যাজমা বা স্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দূর করে। যাদের ডায়বেটিস রয়েছে তাদের জন্য তিশি খুব ভালো। তিশি সেবন করলে ডায়বেটিস একদম কন্ট্রোলে চলে আসবে। এই তিশি আমরা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রনে কিভাবে কাজে লাগাবো? তিশি প্রথমে হালকা তাপে ভেজে নিতে হবে। তবে মনে রাখবেন একদম তেল দিয়ে ভাজা যাবেনা। হালকা ভাবে এই তিশি আপনাকে ভেজে নিতে হবে এবং তারপরই তিশি গুড়ো করে নিতে হবে। 

আপনি একটা মিক্সার গ্রাইন্ডার অথবা পাঠায় যে কোনভাবেই হোক তিশিট গুড়ো করে নিন। এই গুড়া তিশি একগ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে মেশাতে হবে। খুব ভালো করে গুলিয়ে নিন 1 চা চামচ পরিমাণ তিশি প্রতিদিন এক গ্লাস জলে গুলে আপনাকে সেবন করতে হবে সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। তবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিশি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই ভাবে আপনাকে খেতে হবে টানা ১৫ দিন মাত্রা যদি বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি 15 দিন থেকে শুরু করে দেড় মাস পর্যন্ত খেতে পারবেন। এতে আপনার থাইরয়েড একদম কন্ট্রোলে চলে আসবে। 

এবার জানবো দ্বিতীয় উপায়টি, দ্বিতীয় উপায়টি জন্য লাগবে ধনেপাতা। একদম টাটকা ধনেপাতা আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। হাইপোথাইরয়েডের কারণে যাদের অতিরিক্ত ওজন হয়ে গেছে এবং যাদের সারাদিনই খুব ক্লান্ত লাগে তারা অবশ্যই ধনেপাতা খেয়ে আপনার থাইরয়েড কে কন্ট্রোলে আনতে পারবেন। তবে শুধু থাইরয়েড কন্ট্রোল নয় ধনেপাতা একইসাথে আপনাকে অনেক ধরনের উপকারিতা দেবে। 

যেমন আপনার ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আপনার গলার ইনফেকশন থাকলে তা দূর করবে, সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করবে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আপনার স্কিনের যেকোনো সমস্যা হলে তাথেকেও আপনাকে রক্ষা করবে ধনেপাতা। থাইরয়েডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ধনেপাতার রেমিডি প্রস্তুত করার জন্য প্রথমে পরিমাণ মতো ধনেপাতা নিয়ে এগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তারপরে এগুলোকে পেস্ট করতে হবে। 

আপনি যেকোন ব্লেন্ডার অথবা পাটায় এটাকে ভালো ভাবে পেস্ট করে নিন। এবার এই ধনেপাতার পেস্ট প্রতিদিন এক চামচ করে আপনাকে সেবন করতে হবে ১ চা চামচ পরিমাণ আপনি দিবেন এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে। এই ধনেপাতার রেমিডি আপনাকে পান করতে হবে অবশ্যই সকাল বেলায় খালি পেটে। আপনি যদি তিশি সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার ধনেপাতা সেবন না করলেও চলবে। 

আপনি যেকোনো একটি উপায় গ্রহণ করুন, তিশ অথবা ধনেপাতা যেকোনো একটি রেমিডি আপনি ১৫ দিন থেকে শুরু করে দেড় মাস পর্যন্ত সেবন করতে পারেন। তারপরে আপনি থাইরয়েড টেস্ট করে দেখুন আপনার থাইরয়েড লেবেল কোন অবস্থানে আছে। তবে এই সময় আপনি একদম চিনিজাতীয় কোন জিনিস খাবেন না অর্থাৎ আপনাকে চিনি সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে এবং সেইসাথে আপনাকে সয়াবিন এর সমস্ত প্রোডাক্ট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। 

অর্থাৎ আপনি সয়াবিন তেল খেতে পারবেন না, সয়ামিল খেতে পারবেন না, এবং সয়াবিজও খেতে পারবেন না। থাইরয়েড এর জন্য সয়াবিন মারাত্মক ক্ষতিকর একটি খাবার। আপনি সয়াবিন খাবেন না এবং চিনিজাতীয় কোন জিনিস খাবেন না পারলে আপনি অবশ্যই দিনে আধাঘন্টা করে ব্যায়াম করতে থাকবেন। কেননা থাইরয়েড হলে ব্যায়াম করা খুব জরুরি। 

এছাড়া আপনি ডিম খাবেন, ডিম সেদ্ধ করে খাবেন এবং সেই সাথে আপনি প্রচুর পরিমান মাছ খাবেন। আপনি দুধও খেতে পারেন। এই খাবার গুলো আপনাকে মেইনটেইন করতে হবে সেই সাথে Exercise করতে হবে। আপনি হাটতে পারেন সকাল বেলায় অথবা হালকা Free-hand exercise ও করতে পারেন। যদি আপনি এই নিয়মগুলো মেনে চলার সাথে এই দুটি রেমিডি সেবন করতে থাকেন তাহলে আপনার থাইরয়েড একদম কন্ট্রোলে চলে আসবে এবং থাইরয়েড হওয়ার ফলে আপনার শরীরে যে সমস্যা গুলো হচ্ছিলো সেই সমস্যাগুলো আর হবেনা।

Post-টি আপনার কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানাতে পারেন

পোস্ট ট্যাগ -

থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয়,

থাইরয়েড কি কারনে হয়,

থাইরয়েড কমানোর উপায়,

থাইরয়েড নরমাল কত,

থাইরয়েড এর মাত্রা কত,

থাইরয়েড কি ভালো হয়,

থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যা হয়,

থাইরয়েড এর লক্ষণ,

থাইরয়েড চিকিৎসা,

থাইরয়েড কী,



আরো তথ্য -

ইউরিক এসিড বাড়লে কিভাবে বুঝবেন?


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url